ঢাকা, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১৩ আষাঢ় ১৪২৯ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

মুকিতের প্রতিবেদন কেন্দ্রে, জিহাদি বই উদ্ধার হয়েছিল বাড়ি থেকে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২২, ২২:৩৮

মুকিতের প্রতিবেদন কেন্দ্রে, জিহাদি বই উদ্ধার হয়েছিল বাড়ি থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগ গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো প্রতিবেদনে মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা আছে এমন মন্তব্য করে সাক্ষ্য দিয়েছে ২৮ জনের সবাই।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন নিজের মত করে করার জন্য অর্থ খরচ করার চেষ্টা ও তদন্ত কাজে বাধা প্রদান ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে মুকিতের বিরুদ্ধে।

গাইবান্ধা জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ শামস উল আলম হীরু জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আমার নিকট জমা দিয়েছিলেন আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতান আলী মণ্ডল। সেই প্রতিবেদনটি কেন্দ্রে প্রেরণ করেছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ যা সিদ্ধান্ত নেয়ার নেবেন।

তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার সময়ও এই কমিটির কার্য পরিচালনায় বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছিলো মুকিতের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, মাহমুদুজ্জামান প্রান্ত নামের সাবেক এক শ্রমিক লীগ নেতাকে তদন্ত কার্যক্রম চলাকালে এসে চিৎকার করতে। তবে এ ধরনের কার্যক্রমের পরও 'সুষ্ঠু তদন্ত হবে' বলে ঘোষণা দেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুলতান আলী মণ্ডল।

তদন্ত কমিডিটর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানান যায়, এই তদন্ত কমিটি বিগত এক মাসে স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গসংগঠনের ২৮ জন নেতাকর্মীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

কেন্দ্রে জমা দেয়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাক্ষ্য দেয়া কোনো ব্যক্তি মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। কেউ কেউ তার পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নিশ্চুপ থাকলেও অধিকাংশ সাক্ষী তার পরিবারের সঙ্গে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। সেই সঙ্গে তার বাবার মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার বিষয়েও কোন তথ্য প্রদান করেনি সাক্ষীরা।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে মুকিতের বাসায় শিবিরের মেস থাকার অভিযোগ। একাধিক সাক্ষী এই অভিযোগ করেন। লিখিত জবানবন্দীতে একজন জানান, ২০১৩ সালে সেখানে থাকা শিবিরের মেস থেকে কি ধরণের সহিংসতা চালানো হয়েছে সে বিষয়েও বক্তব্য দিয়েছেন একাধিক সাক্ষী। একজন সাক্ষী তার লিখিত জবানবন্দীতে জানান, মহিবুল হাসান মুকিতের বাবা হাবিবুর রহমান ও মা মালিহা বেগম পলাশবাড়ীতে জামায়াত শিবির প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৯০ সালে জামায়াত শিবির করার কারণে সাবেক থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মতলুবর রহমান নান্নু তার ভাড়া বাসা থেকে বের করে দেন মুকিতের পরিবারকে।

২০১৩ সালের নাশকতার সময় তাদের এই বাসা থেকেই নাশকতায় লিপ্ত ছিল এবং কিছু বাইসাইকেল ও জেহাদি বই পুলিশ উদ্ধার করে। মুকিত এর বাসায় যে ট্রেনিং সেন্টার ছিল সেখান থেকে বসে আমার বাসা ভাংচুর সহ উপজেলা পরিষদের গাড়ী পুড়িয়ে দেয়, যা ২০১৩ সালের ঘটনা। যার ফলে ওই সময় বাড়িটিতে সিলগালা করা হয়েছিল বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এ ছাড়াও মুকিতের বাবা-মায়ের সঙ্গে জামায়াত ইসলামের সম্পৃক্ততা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেন অনেকেই। একাধিক সাক্ষী জানিয়েছেন, মুকিতের বাবা-মা জামায়াতের সঙ্গে কাজ করতো কথাটি শতভাগ সত্য।

এর আগে মুকিতের পরিবারের বিরুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন জানান আমিনুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা। কেন্দ্র সেই চিঠি আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রদান করে জেলাকে। এরই ধারাবাহিকতায় একে একে বেড়িয়ে আসা মুহিবুল হাসান মুকিতের পরিবারের জামায়াত সংশ্লিষ্টতার তথ্য।

বাংলাদেশ জার্নাল/এআর/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত