ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

দেবর-ভাবির দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত জাতীয় পার্টি

  আকরাম হোসেন

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৪৬  
আপডেট :
 ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৮:৫০

দেবর-ভাবির দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত জাতীয় পার্টি
ফাইল ফটো
আকরাম হোসেন

নেতৃত্ব, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার পদ, দশম কাউন্সিল এবং আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে জাতীয় পার্টি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর থেকেই তার স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।

বর্তমানে পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বে রয়েছেন রওশন এরশাদ। অপর দিকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসাবে আছেন জিএম কাদের।

জানা যায়, ছেলে সাদ এরশাদকে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বানানোর চেষ্টা করছেন রওশন এরশাদ। অপর দিকে পার্টি থেকে রওশন এরশাদকে সরানোর চেষ্টা করছেন জিএম কাদের। এসব কেন্দ্র করে সম্প্রতি দু'গ্রুপের মধ্যে বিরোধ আরো ঘনীভূত হয়েছে। জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দলটিতে ততই অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

প্রায় বছর খানেক অসুস্থ হন রওশন এরশাদ। দীর্ঘ দিন থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি। ২৭ জুন দেশে ফিরে আসেন। যোগ দেন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে। ৮ দিন পর ৪ জুলাই আবারো চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে ফিরে যান তিনি।

এরই মধ্যে গত ৩১ আগস্ট হঠাৎ জাতীয় পার্টির ১০ম জাতীয় কাউন্সিলের ডাক দেন রওশন এরশাদ। নিজেকে আহ্বায়ক ঘোষণা করে আগামী ২৬ নভেম্বর কাউন্সিল করার জন্য ৮ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন। তার রাজনৈতিক সচিব সাবেক রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহকে সদস্য সচিব করা হয় এবং জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলা, সালমা ইসলাম ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়।

তবে এই আহ্বায়ক কমিটির নেতারা জানান, তাদের সাথে আলাপ করে এই কমিটি করা হয়নি। ওই দিন রাতেই জাতীয় পার্টি থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, রওশন এরশাদ দলের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাউন্সিল আহ্বান করতে পারেন না। এরপর দলছুট এবং পদ হারানো নেতাদের নিয়ে আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি (কাউন্সিল) করেন রওশন এরশাদ।

গত ১ সেপ্টেম্বর সংসদীয় কমিটির বৈঠক করে রওশন এরশাদকে বাদ দিয়ে জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করার জন্য স্পিকারকে চিঠি দেয় জাতীয় পার্টি। দলের ২৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ২৩ জন এতে স্বাক্ষর করেন বলে জানান জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। সাধারণত দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ এমপিদের মতামতের আলোকেই সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন স্পিকার। তবে স্পিকারকে চিঠি দেয়ার পর ১৫ দিন কেটে গেলেও এখনো নতুন বিরোধীদলীয় নেতার নাম আসেনি। এরই মধ্যে দলের মধ্যে রওশন এরশাদের তৎপরতা বাড়তে থাকে।

হঠাৎ বুধবার সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইফ মসিউর রহমান রাঙ্গাকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামসহ সব ধরনের পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেন জিএম কাদের। পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাবেক মহাসচিব রাঙ্গাকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন তিনি। ইতোমধ্যে এ আদেশ কার্যকর হয়েছে বলেও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তবে কী কারণে তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে নোটিশে তা উল্লেখ করা হয়নি।

মসিউর রহমান রাঙ্গার অব্যাহতি প্রসঙ্গে জিএম কাদের জানান, মসিউর রহমান রাঙ্গা সংবাদমাধ্যমে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের জন্য অবমাননাকর। তাই সবার সিদ্ধান্তে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, জিএম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার অগ্রগতি কতদূর, তা জানতে বুধবার স্পিকারের কার্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল মসিউর রহমান রাঙ্গার। কিন্তু মঙ্গলবার তিনি চিঠির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সংসদীয় দলের সভার আলোচ্যসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনের বিষয়টি ছিল না। তারিখেও ভুল রয়েছে। জিএম কাদের সাহেব যেটা করেছেন সেটা সঠিকভাবে হয়নি, গঠনতান্ত্রিক হয়নি। সব ঠিক করে, বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনে পুনরায় সভা আহ্বান করার কথা বলেন তিনি।

জাপার একটি সূত্রের জানায়, পক্ষ বদলে রওশন এরশাদ শিবিরে ভিড়েছেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। সে কারণেই চিঠি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। সেটি আঁচ করতে পেরেই তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়ার পর রাঙ্গা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার পদ থেকে রওশন এরশাদকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন জিএম কাদের।

তবে অব্যাহতির পর দিনই সুর পাল্টেছেন রাঙ্গা। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আমার অব্যাহতির আদেশে অখুশি নই। তবে আমি আমার বহিষ্কার (অব্যাহতি) আদেশ প্রত্যাহার চাই। চেয়ারম্যানের সঙ্গে যুদ্ধ করে দলে থাকা যায় না। আমি চাই, দলটা যেন সুন্দরভাবে চলে, না ভেঙে যায়। দলটাকে ছোট করা ঠিক হবে না। প্রয়োজনে আমি নিজেই দলে থাকব না

জিএম কাদেরের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, শীর্ষ আরো কয়েকজন নেতার দিকে নজর রেখেছেন জিএম কাদের। তাদের গতিবিধি ও কথাবার্তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যারাই জিএম কাদেরের সাথে দ্বন্দ্বে জড়াবে, তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এএইচ/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত