ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১০ মে ২০২১, ০৫:০৭

প্রিন্ট

রাতভর ইবাদত বন্দেগীতে পবিত্র শবে কদর পালিত

রাতভর ইবাদত বন্দেগীতে পবিত্র শবে কদর পালিত
ছবি সংগৃহীত

জার্নাল ডেস্ক

গুনাহ মাফ ও অধিক সওয়াবের আশায় রাত জেগে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির-আজকারের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে কদর পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে এবার বেশির ভাগ মানুষ বাসায় ইবাদত–বন্দেগিতে মশগুল আছেন।

রোববার দিবাগত রাতে রাজধানীর প্রায় সব মসজিদেই মুসল্লিদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে এশার আজানের পর থেকেই মসজিদে আসতে শুরু করেন মুসল্লিরা।

রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মুসল্লিরা তারাবি নামাজ শেষে নফল নামাজ আদায় করছেন। কেউ কেউ দরুদ পাঠ করছেন। অনেকেই কোরআন পাঠ ও জিকির আজগর করছেন।

বায়তুল মুকাররমে আসা এক মুসল্লি বলেন, আজ নামাজ পড়ে সবার জন্য দোয়া করলাম। আল্লাহ যেন সবাইকে রক্ষা করেন। সবচেয়ে বড় যেটা চাওয়া সারা পৃথিবী যে করোনায় জর্জরিত অবস্থায় আছে, আমরা যেভাবে স্থবির হয়ে আছি, এ অবস্থা থেকে আল্লাহ যেন আমাদের মুক্তি দান করেন।

হাদিসে এসেছে, ২০ রমজানের পর যেকোনো বিজোড় রাতই পবিত্র শবে কদর হতে পারে। বরকতময় এই রাতে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহকে ডাকার মাধ্যমে মুসলমানদের পাপমুক্তির বড় সুযোগ বলে মনে করেন আলেমগণ।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র এশার নামাজ ও তারাবি আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। বায়তুল মোকাররমে যৌথভাবে ইমামতি করেন পেশ ইমাম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাকী নদভী ও ইমাম মহিউদ্দিন কাসেমি।

নামাজ শেষে দেশ ও জাতির জন্য দোয়া মোনাজাত করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বাকী নদভী।

মোনাজাতে করোনাভাইরাস মহামারি থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে তিনি বলেন, হে আল্লাহ, পবিত্র রমজানের উসিলায় এই মহিমান্বিত রজনীতে তুমি আমাদের এই মহামারি থেকে মুক্তি দাও। যারা করোনায় মারা গেছেন তাদের জান্নাত নসীব করো। যারা অসুস্থ্য তাদের সুস্থ্য করে দাও। করোনা মহামারিসহ সব ধরণের বালা মুসিবত থেকে তুমি দেশ জাতি ও সারাবিশ্বকে পরিত্রাণ দাও। তুমি ছাড়া আমাদের রক্ষা করার আর কেউ নাই, তুমি একমাত্র রক্ষাকারী। আজকের এই পবিত্র রাতে তুমি আমাদের দোয়া কবুল করো। আজ রাতে দোয়া কবুল হওয়ার রাত। মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে তিনি বলেন, হে আল্লাহ, তুমি আমাদের রোজা, এবাদত বন্দেগি কবুল করো। আমাদের মা-বাবাসহ সকলের গুনাহ ক্ষমা করো। আমরা তওবা করছি আল্লাহ, তুমি আমাদের মাফ করো। রমজানের পর গুনাহমুক্ত জীবন-যাপনের তওফিক দাও। বাংলাদেশকে সব ধরণের অশান্তি ও ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করো।

বায়তুল মোকাররমে অশ্রুসিক্ত নয়নে জিকির আজকার ও এবাদত বন্দেগিতে মশগুল রয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। শুধু বায়তুল মোকাররম নয় রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার মসজিদ, মিরপুর শাহ আলী মাজার মসজিদ, মহাখালী গাউছুল আজম জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদ, শাহজানপুর গাউছুল মসজিদ, কমলাপুর জামে মসজিদ, সায়েদাবাদ ফয়জানে জামে মসজিদসহ সারাদেশে মসজিদগুলোতে রাত যত বাড়ছে ততই মুসল্লির উপস্থিতি বাড়ছে। মুসল্লির ঢল নেমেছে হাইকোর্ট মাজার মসজিদসহ অধিকাংশ মসজিদে।

> আরো পড়ুন: শবে কদরের নামাজের নিয়ত ও নিয়ম

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত