জাদুঘরের জাদুর ছোঁয়া

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

  জার্নাল ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

জাদুঘর শব্দটি যখনই আমাদের কানে ভেসে আসে, তখনই আমাদের মাঝে ভিন্নধর্মী একটি আগ্রহের জন্ম হয়। কেননা এই স্থাপত্যের ভিতরে থাকা নানান জিনিসপত্র আমাদের কে ধাঁধাঁর মধ্যে ফেলে দেয়, পাশাপাশি জানার আগ্রহ তৈরি করে। ফলে এই ঘরের প্রতি মানুষের আগ্রহ থাকে চরমে। 

তবে এই সংগ্রহশালাগুলি কেবলই যে গৃহকৃত নিদর্শনগুলির জন্যই সকলের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে তা কিন্তু নয়, এই নির্মাণকৃত স্থাপত্যেও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। যে কারণে অনেক সময় দেখা যায় জাদুঘরের বাইরের দৃশ্যটাই সেখানটা ঘুরে দেখার প্রধান কারণ হয়ে উঠে । 

চলুন জেনে নিই তেমনই কিছু মন্ত্রমুগ্ধকর জাদুঘর সম্পর্কে-

ভ্যাটিকান মিউজিয়াম:

মিউজিয়ামটি  ভ্যাটিকান সিটিতে অবস্থিত। প্রথমে খ্রিষ্টান ক্যাথলিকদের জন্যে এটি বানানো হলেও বর্তমান সময়ে এটি সকলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। প্রাচীন এবং মিশরীয় সভ্যতার শিল্পকর্মও এখানে গুরুত্বসহ স্থান লাভ করেছে। এর সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে বিভিন্ন মানচিত্র এবং ধর্মীয় বিভিন্ন চিত্রকর্ম। এরা মূলত কোন জাতি গোষ্ঠীর ইতিহাস তুলে ধরেনি বরং এটি সমাজ ও সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিবিম্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।  

কুনিস্টিরিস্টিচ জাদুঘর, অস্ট্রিয়া:

অস্ট্রিয়ার বৃহত্তম আর্ট মিউজিয়াম এটি যা ভিয়েনায় অবস্থিত। মিউজিয়ামটির নামের অর্থ শিল্পের ইতিহাস । এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ ব্রুয়েগেল (পিটার ব্রুগেল তার অনিশ্চিত জেনার জন্য পরিচিত ছিল) বিশ্বের পেইন্টিংগুলি বলে মনে করা হয়। কাকতালীয়ভাবে, সংগ্রহশালাটি ব্রুগেল এর ৪৫০ তম মৃত্যুবার্ষিকী উদ্বোধন করছে অক্টোবর ২০১৮ এবং নভেম্বর ২০১৯ এর মধ্যে তার মনোগ্রাফ প্রদর্শন করে । ঘরগুলি জায়গাটিকে এত বিশেষ করে তোলার কারণ যে কেবল একটি শিল্প এ জন্যে নয়, এটি নির্মাণের জন্যও ব্যবহৃত স্থাপত্যও।

মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম অফ আর্ট:

জাদুঘরটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । জাদুঘরটিতে ইসলামী সভ্যতার বিভিন্ন চিত্রকর্ম থেকে সহ  ইউরোপিয়ান অনেক দর্শনীয় বস্তু  রয়েছে। এখানকার বিভিন্ন অস্ত্র এবং বর্মের চিত্রকর্ম আপনার আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে।  আপনার মনে হবে টাইম মেশিনে করে নিয়ে যাচ্ছে অতীতের  কোন এক কালে। বিখ্যাত জার্মান পেইন্টার আলব্রেসট দ্যুরের খোদাই করা অ্যাডাম এবং ইভের মূর্তির জন্যই এই জাদুঘরটি বেশি বিখ্যাত। আধুনিক এবং প্রাচীন কাল মিলিয়ে ২০ লাখেরও বেশি দর্শনীয় বস্তু আছে এখানে।  

প্রাদো মিউজিয়াম: 

এটি স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে অবস্থিত। পৃথিবীর বিখ্যাত সব জাদু ঘরের মধ্যে এটি একটি। যার ডিজাইনার ছিলেন বিখ্যাত জুয়ান দে ভিলানুয়েভা। কালক্রমে এটা প্রাদো মিউজিয়ামের রূপ নেয়।  এর মাধ্যমে স্পেনের নানান সভ্যতার সম্পর্কে জানতে পারবেন। এটিকে ইউরোপিয়ান চিত্রকলার বিশাল এক সংগ্রহশালা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।  জাদুঘরটিকে  সমৃদ্ধ করতে দারুণ ভূমিকা পালন করে স্পেনের প্রাচীন সভ্যতাগুলো। এ ছাড়াও এই জাদুঘরটি তে রয়েছে স্পেনের সেরা চিত্রকরদের আঁকা ছবিও। ১৮১৯ সালে ফার্নেন্দো সপ্তম সংগ্রহ শালাটি উন্মুক্ত করেন জনসাধারণের জন্য। পুরো পশ্চিমা চিত্রকর্মের এক অসাধারণ সংস্করণ বলা যেতে পারে প্রাদো মিউজিয়ামকে। ফলে জাদুঘরটি পেয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। এই জাদুঘরের প্রধান আকর্ষণ হলো রুবেনসের ‘দ্য থ্রি গ্রেসেস’। 

গিমে মিউজিয়াম:

গিমে জাদুঘর ও প্রত্নসম্পদ কেলেঙ্কারি | The Business Standard

এটি ফ্রান্সের প্যারিসে অবস্থিত। ফ্রান্সের একজন ব্যক্তির নামানুসারে এটির নামকরণ করা হয় । এমিল গিমে নামের সেই সৌখিন শিল্পপতি ১৮৭৬ সাল থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত আফ্রিকার মিশর , ইউরোপের গ্রিস সহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে বিভিন্ন প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন ও পুরাকীর্তি সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সেগুলোর দ্বারা একটি মিউজিয়াম স্থাপন করেন। আর তার নামানুসারে এই মিউজিয়ামের নাম রাখেন। ১৮৭৯ সালে যাত্রা শুরু করলেও তার ঠিক দশ বছর পর স্থানান্তর করে বর্তমান স্থান অর্থাৎ প্যারিসে  ১৮৮৯ সালে নিয়ে আসা হয়। এর পর প্যারিসে স্থানান্তর করা হলে তা ফ্রান্স সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে যায়। এবং তাতে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার প্রত্নতত্ব ও পুরাকীর্তি দ্বারা সমৃদ্ধ করেন।

ব্রিটিশ মিউজিয়াম:

জাদুঘরটি ১৭৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ জাদুঘরে ডুকতেই আপনার মনে পুরো পৃথিবীর সকল নিদর্শন বা ইতিহাসটা যেন এখানেই আছে। সংগ্রহের দিক থেকে এটিকে বিশ্বের  অন্যতম সমৃদ্ধ জাদুঘর হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৭০ লাখ দর্শনীয় বস্তু রয়েছে। কিন্তু এর ৪০ লাখ বস্তু মানুষের জন্য উন্মুক্ত। বিশ্বের বিভিন্ন জায়গা থেকে  সংগৃহিত চিত্রকর্মের দ্বারা বর্তমানে পৃথিবীর অন্যতম সেরা মিউজিয়াম। প্রতিবছর গড়ে ৬০ লাখ দর্শনার্থী এই জাদুঘর দেখতে যায়। 


বাংলাদেশ জার্নাল/সেফু/এএম