ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাবেক সম্পাদকের কাণ্ড!

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:২৯  
আপডেট :
 ১১ জানুয়ারি ২০২২, ২০:২৩

ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সাবেক সম্পাদকের কাণ্ড!
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের বহু কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ৩১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন। আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করেছিল ক্রীড়া পরিষদ। করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর ফের অনুষ্ঠিত হচ্ছে নির্বাচন।

ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের নির্বাচনে আশায় বুক বেঁধেছেন শাটলাররা। কারণ অর্ধযুগ ধরেই তারা সংকটের মধ্যে। আশপাশের দেশগুলোর ব্যাডমিন্টনের মান দিন দিন বাড়ছে। অথচ ২০১৬ সালের পর থেকে দেশের ব্যাডমিন্টনের মান ক্রমাগত নিচের দিকে নামছে। ওই সময়ে নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরেই সাধারণ সম্পাদক শামসুল আরেফিন ফিরোজ মারা গেলে সব নিয়মনীতি ভেঙে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকদের বঞ্চিত করে কেবলমাত্র একটি সভার মাধ্যমে সিনিয়র সহসভাপতি আমির হোসেন বাহার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বনে যান।

২০১০ ও ২০১৬ সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে তিনটি করে পদক জিতলেও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের দেশি কোচ নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি এবং বিদেশি কোচ আনতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৯ সালে কাঠমান্ডু এসএ গেমসে পদক সংখ্যা নেমে আসে একটিতে। সাউথ এশিয়ান রিজিউনাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ বরাবর ব্রোঞ্জ পদক পেলেও ২০১৯ সালে মালদ্বীপ, নেপালের মত দলগুলোর কাছে হেরে পদকশূন্য থাকতে হয়।

ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হলে কবিরুল ইসলাম শিকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ক্রীড়া পরিষদ। কিন্তু নতুনত্ব কিছুই পাননি শাটলাররা। আগের মেয়াদের মতো এই দুই বছরেও প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আয়োজন না করায় শালটরারদের একমাত্র আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যাডমিন্টনের প্রাণ ক্লাবগুলোর সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে। জীবিকা নির্বাহের জন্য দেশি অনেক সেরা শাটলারই বিভিন্ন জেলায় খেপ খেলতে বাধ্য হন।

অ্যাডহক কমিটিতে সহসভাপতি পদে ফিরলেও আমির হোসেন বাহার ছিলেন সক্রিয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত বছরের ৪ জানুয়ারি সহসভাপতির পদে থেকেও আগের প্যাডে সাধারণ সম্পাদক পদবী ব্যবহার করে সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদারের অগোচরে খেপ খেলার জন্য ভারতীয় চার শাটলারকে ঢাকায় আনেন বাহার। এরা হলেন- ডুজ্ঞাল এশান, রানা হার্শ, বোরা শর্মা রাজ, রাওয়াত কাউস্তভ। এদেরকে ভিসা দেয়ার জন্য সরকারি আদেশ (জিও) এবং বাংলাদেশস্থ ভারতীয় দূতাবাসে ভিসার জন্য অনুরোধপত্র পাঠান।

এই চিঠির কল্যাণে নয়া দিল্লিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস তাদেরকে ভিসা দেয় এবং ওই চার শাটলার বাংলাদেশে এসে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত একটি টুর্নামেন্টে খেপ খেলে যান। বাহারের এহেন কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক এবং অন্যায় বলেও জানান কবির শিকদার। বিগত পাঁচ বছর খেলার চেয়ে মেলা বেশি হওয়ায় ক্রমাগত ধ্বংসের দিকেই গেছে দেশের ব্যাডমিন্টন। তাই নির্বাচনে ব্যাডমিন্টন প্রিয় সংগঠকদেরই ক্ষমতায় চান শাটলাররা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমির হোসনে বাহার বলেন, ‘হয়তো কেউ আমার সই জাল করে বসিয়েছে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এখানে বাংলায় লেখা হয়েছে। অ্যাম্বাসিতে যা গ্রহণযোগ্য নয়। এটা সম্পূর্ণ ভূয়া।’

বাংলাদেশ জার্নাল/আইএইচ/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত