ঢাকা, শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে
শিরোনাম

‘ইউক্রেন বাঁচাও, ইরানি নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা’

  ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৭:৩৬  
আপডেট :
 ২৯ নভেম্বর ২০২২, ১৭:৫৬

‘ইউক্রেন বাঁচাও, ইরানি নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা’
তিনটি ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা নিয়ে মাঠে সমর্থক । ছবি: ইন্টারনেট
ক্রীড়া ডেস্ক

কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে তখন পর্তুগাল বনাম উরুগুয়ে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা চলছিল। আচমকাই মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়েন এক আন্দোলনকারী। তার পরনে ছিল নীল রঙের সুপারম্যান টি-শার্ট। বুকে সাদা হরফে লেখা ‘সেভ ইউক্রেন (SAVE UKRAINE)’, পিঠে লেখা ‘ইরানের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা (RESPECT FOR IRANIAN WOMAN)’। তার হাতে ছিল রংধনু পতাকা।

রোনালদোর পর্তুগালের ম্যাচ ৩০ সেকেন্ডের মতো বন্ধ ছিল। কারণ সেই প্রতিবাদী মাঠে চক্কর কাটছিলেন তখন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ম্যাচ চলাকালীন উরুগুয়ের গোলপোস্টের দিক থেকে রংধনু পতাকা হাতে মাঠের অপর প্রান্তের উদ্দেশে দৌড়াতে থাকেন একজন সমর্থক। মাঝমাঠের কাছেই তাকে ধরতে যান এক নিরাপত্তারক্ষী। তবে তার নাগাল পাননি। তারপর কিছুটা দৌড়ে হাত থেকে পতাকা ফেলে দেন ওই সমর্থক। তারপর অপরপ্রান্ত থেকে একজন এসে ওই সমর্থককে ধরে মাঠে ফেলে দেন। তারপর তিনজন মিলে ওই সমর্থককে মাঠের বাইরে বের করে নিয়ে যান। মাঠে পড়ে থাকা রংধনু পতাকা সাইডলাইনের বাইরে রেখে দেন রেফারি। পরে এক মাঠ কর্মী তা তুলে নিয়ে যান।

একই সঙ্গে তিনটি ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে ফের খবরের শিরোনামে আন্দোলনকারী মারিও ফেরি। মারিওর রংধুন পতাকা কথা বলল সমকামীদের সমর্থনে। আয়োজক দেশ কাতারে সমকামী নিষিদ্ধ। তারই প্রতিবাদে মারিও আনলেন রংধনু পতাকা। রাশিয়ার আগ্রাসনে ধুঁকতে থাকা ইউক্রেনের সমর্থন করলেন তিনি। এর পাশাপাশি মারিও ইরানের হিজাব বিরোধী আন্দোলনেও শামিল হলেন।

তিনটি ইস্যুতে প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা নিয়ে মাঠে সমর্থক । ছবি: ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন এই ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য ফিফা এবং কাতার টুর্নামেন্ট আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি।

কে এই মারিও ফেরি?

মারিওর এখন বয়স ৩৫। ডাকনাম ফালকো। পেশায় তিনি ফুটবলার ও ইনফ্লুয়েন্সার। ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ভেরিফায়েড। মারিও কিন্তু এমনটা এই প্রথম করলেন না। ফুটবলের মাঠেই তিনি বারবার বিভিন্ন ইস্যুতে জানান প্রতিবাদ। সে বিশ্বকাপ হোক বা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।

২০১০ সালে প্রথমবার মারিও খবরে এসেছিলেন। ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন-জার্মানির শেষ চারের ম্যাচেও মাঠে ঢুকে গিয়েছিলেন। সেই বছরই আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলান ম্যাচেও এই কান্ড ঘটান। এমনটা করে যদিও তিনি ডাক পেয়েছিলেন ইতালিয়ান চ্যাট শো-তেও। এরপর সেই বছরই ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইন্টারমিলান ও মাজেম্বে ম্যাচেও তিনি মাঠে এসে খেলা ক্ষণিকের জন্য বন্ধ করেছিলেন।

এরপর ২০১১। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। সেবারও মাঠে ছিল মারিওর উপস্থিতি। ২০১৪ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বেলজিয়াম-ইউএসএ। মারিও যা করার তাই করেছিলেন! এই মারিওর সঙ্গে রয়েছে কিন্তু খাস কলকাতা কানেকশনও। চলতি বছর ইউনাইটেড স্পোর্টসের সঙ্গে এই মিডফিল্ডারের চুক্তি হয়েছিল। নয় বছরের ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মারিওর। কিন্তু করোনার জন্য লিগ সাময়িক বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, মারিও ফিরে গিয়েছিলেন দেশে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত