ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৯ মাঘ ১৪২৯ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

রোনালদোর মুখে প্রশংসা, কোচের সমালোচনায় বান্ধবী

  ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬:৫১

রোনালদোর মুখে প্রশংসা, কোচের সমালোচনায় বান্ধবী
রোনালদোর মুখে প্রশংসা, কোচের সমালোচনায় বান্ধবী । ছবি: ইন্টারনেট
ক্রীড়া ডেস্ক

কাতার বিশ্বকাপে ছন্দহীন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্লাব ফুটবলসহ বিশ্বকাপের নানা বিতর্কে আলোচনায় পর্তুগিজ তারকা। ঠিক এরকম পরিস্থিতিতে রোনালদোকে বেঞ্চে বসিয়েই, সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম একাদশ সাজিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোস। নক আউট পর্বের ম্যাচে সিআর সেভেন মাঠে নামেন ৭৩ মিনিটে। তিনি নামার আগেই পর্তুগাল ৫-১ গোলে এগিয়েছিল। রোনালদোর পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়া গনসালো রামোস বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকও করেন। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ৬-১ গোলে জিতে শেষ আটে পৌঁছেছে পর্তুগাল।

প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের মত ম্যাচে রোনালদোকে ছাড়া প্রথম একাদশ দেখে গোটা বিশ্বের মতই অবাক হয়েছিলেন স্টেডিয়ামে থাকা তার বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজ। কেন বেঞ্চে বসাতে হয়েছে রোনালদোকে? প্রকাশ্যে এবার জবাব চাইলেন পর্তুগিজ তারকার বান্ধবী।

রোনালদোর জন্য তার পরিবার চলে এসেছে কাতারে। জর্জিনাকে প্রতি ম্যাচেই পাওয়া যাচ্ছে গ্যালারিতে। পর্তুগাল-সুইজারল্যান্ড ম্যাচেও লুসাইল স্টেডিয়ামের ভিআইপি গ্যালারিতে ছিলেন সিআর সেভেনের বিশেষ মানুষ। স্ট্যান্ড থেকে নিজের ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জর্জিনা লেখেন, পর্তুগালকে অভিনন্দন। কিন্তু ১১ জন ফুটবলার যখন জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে, সেই সময় একজনকেই খুঁজছিল সকলে। এটা লজ্জার যে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ফুটবলারের খেলা পুরো ৯০ মিনিট দেখতে পেল না কেউ। ভক্তরা তোমার জন্য চিৎকার করছিল। তারা দাবি জানাচ্ছিল তোমাকে দেখার। আশা করি ঈশ্বর এবং তোমার বন্ধু ফের্নান্দো এক হবে আর তোমাকে আবার খেলতে দেখব।

রোনালদোর বোন এলমা আভেইরো পর্তুগিজ কোচের সিদ্ধান্ত সমালোচনা করে বলেছেন, রোনালদো দিনের পর দিন পর্তুগালের জন্য লড়েছে। সেই মানুষটার সঙ্গে এমন অবিচার আসলে লজ্জার। ওর বয়স হয়েছে। এটা স্বাভাবিক। ও এখন গোল পাচ্ছে না। তার জন্য ওর সব অবদান ভুলে যেতে হবে! রোনালদোকে আর দরকার নেই। কোচ ওর সব অবদান এত সহজে ভুলে গেলেন! এটা অবিচার হল রোনালদোর সঙ্গে।

পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো সান্তোসের সাহসী ও সময়পযোগী সিদ্ধান্তে দলের জয়ের কোনও বাধা আসেনি। পর্তুগালকে ইউরো কাপ জেতানো কোচের আস্তিনে ছিল গনসালো রামোস, যা তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন। মোক্ষম সময় বার করে বিপক্ষকে একেবারে তছনছ করে দিলেন পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে। রোনালদোর পরিবর্তে খেলা রামোস হ্যাটট্রিক করে সব লণ্ডভণ্ড করে দেন। রোনালদোকে বেঞ্চে বসে থাকবেন, আর তার ব্যাখ্যা কোচকে দিতে হবে না, সেটা হতে পারে না। সে রোনালদোর ফর্ম যেমনই থাকুক না কেন!

ম্যাচের আগে থেকেই জানা যাচ্ছিল যে, রোনালদো-সান্তোসের সম্পর্ক হয়তো আর আগের মতো নেই। যদিও তাদের কেউই এটা মেনে নেননি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-১ গোলে ম্যাচ জিতে ইনস্টাগ্রামে রোনাল্ডো লেখেন, পর্তুগালের জন্য একটা দারুণ দিন। বিশ্ব ফুটবলের সব থেকে বড় প্রতিযোগিতায় ঐতিহাসিক ফল। প্রতিভা এবং তারুণ্যের মিশেল দেখা গিয়েছে। যে দল নির্বাচন করা হয়েছিল, সেটাকে প্রশংসা করতেই হবে। স্বপ্নের দৌড় চলছে। শেষ পর্যন্ত চলবে।

ম্যাচ শেষে সান্তোস জানান, রোনালদো ১৯ বছর বয়সে স্পোর্টিংয়ে থাকাকালীন তাকে তিনি চেনেন। ২০১৪ থেকে একসঙ্গে জাতীয় দলের জন্য কাজ চালিয়ে আসছেন। ম্যানেজার ও প্লেয়ার হিসেবে তাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়নি। রোনালদোকে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেও উল্লেখ করেছেন সান্তোস। তিনি বলেন, শৃঙ্খলারক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। রোনালদো বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। ফলে সামনে যা কিছু করতে হবে তা দলগত সংহতিতে ভর করেই। সেই সঙ্গে সান্তোস স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফুটবলার নামানো বা তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত কোনও বিষয় নেই। যা হচ্ছে সেটা স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী। এমনকী মরক্কো ম্যাচে প্রথম একাদশে না থাকা সকলকেই পরের দিকে খেলানোর সম্ভাবনাও যে থাকবে, সেটাও জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত